বুধবার, ১৩ আগস্ট, ২০১৪






চলো নদী কিনি 

নিধুভূষণ দাস 


চলো  যাই নদী কিনি
নদী হবে ব্যক্তিগত সম্পত্তি আগামী দিনে
বোতলবন্দী জল,কোমল পানীয বানাতে চাই বিপুল জল
মাছ ,জলজ উদ্ভিদ ,মায় ড্রেজিং-এ উঠে আসা বালি
সবই বিকোবে অনেক দামে ,থাকবে নৌবিহারেরও আয়োজন
বিত্তবানদের ব্যাঙ্ক-কার্ডে টাকা আসবে আমাদের ঘরে।

কিনতে হবে নদীর উত্স পাহাড়ও,নয়তো ওরা ঘুরিয়ে দেবে নদীর পথ
ওখানকার মানুষদের বানাবো দাস ,নয়তো তাড়াবো অবলীলায়
বাস্তুতন্ত্র করব সমৃদ্ধ নদীর স্বাস্থ্য রক্ষায়।

চলো যাই জঙ্গল কিনি ,ওখানে মাটির নিচে সঞ্চিত আছে মূল্যবান খনিজ
বক্সাইট ,ইউরেনিয়াম ,আরও কত কী
খনিজ আহরণে প্রয়োজনে সাফাই করবো বন
হয় হোক পরিবেশ বিপর্যয় ,আগামী দিনের জন্য
চাই ,যাকে বলে,কৌশলগত বিনিয়োগ
চলো  যাই পকেটবন্দী করি প্রকৃতি। 

বৃহস্পতিবার, ৩১ জুলাই, ২০১৪



তুমি খুব ভালো আছো 

নিধুভূষণ দাস 




শৈশবে  কী খেয়ালে একদিন লাগিয়েছিলাম এক আমের চারা
সে এখন আমার মতোই  বড়ো ,বয়স যদিও কম পাঁচ বছর
গ্রীষ্মে  এখনও সে ফল  দেয় ,খরতাপে দেয় শীতল ছায়া
বাতাসে দোলে  যখন তার ডালপালা ,বিশ্বাস হয় ডাকছে আমাকে
ছুটে যাই  তার  তলায়,যেমন যেতাম এক সময় তোমাকে  নিয়ে
জানো তুমিও, সে কোনোদিন করেনি  অমর্যাদা এই  বিশ্বাসের
দিয়েছে পাকা ফল মনের মতো ,তুমি বলতে "বন্ধু পরম "
এখনও বন্ধুত্বে অকৃত্রিম আমরা দুজন ,শুধু থাকলেনা  তুমি

আজও সে যেনো  বারবার খোঁজে তোমাকে ,অস্ফুটে শুধোয়  "কোথায় অনুসূয়া?"
আমি তারে  বলি "ও ভালো আছে সুদূরে  কংক্রীটের  জঙ্গলে,খুব ভালো আছে।

সোমবার, ২৮ জুলাই, ২০১৪




বুদ্ধের অনুভব 

নিধুভূষণ দাস 


ঈদও পারেনা  আনন্দ  আনতে
যখন মনে পড়ে হারানো স্বজনকে।

এক ঈদের দিনেই চলে যায় অগ্রজ  আমার
জানি, আর  আসবেনা ফিরে কোনোদিন
কিন্তু অপাপবিদ্ধ মুখটি ভুলতে পারিনা যে
চাইও না সেই ছবি মুছে যাক হৃদয় থেকে।

বুঝি  বিষাদই পরম সত্য
জীবনে যা দিতে  পারে বুদ্ধের অনুভব।