শনিবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৪

‌প্রিয় অভয়া

 ‌

‌প্রিয় অভয়া

নিধুভূষণ দাস



অভয়া তু‌মি নেই,চ‌লে গে‌লে

ঘৃণাভ‌রে ছে‌ড়ে গে‌লে অসভ্য সভ্যতা।

যা‌বেই তো,থাকাই অন্যায় মে‌নে নেওয়া

অ‌বিচা‌রের গর্ভ থে‌কে‌ বিচার পাওয়ার

অশা নি‌য়ে বাঁচার মূঢ়তা।


অভয়া,বোন আমার,সু‌ষ্টির উৎ‌সে ফি‌রে গি‌য়ে

ভণ্ড রাষ্ট্র-প‌রি‌বেশ থে‌কে মু‌ক্তি নি‌লে।

এই পাপ নিয়‌ন্ত্রিত ক্লেদাক্ত রাজসভায়

 ভীষ্ম পিতামহও নীরব অন্যায় দে‌খে।


বিচা‌রের না‌মে কুনাট্য দেখব, অ‌নেক অ‌নেক

শুন‌বো রাজনারায়ণ ও রাজলক্ষ্মীরা বল‌বেন

বিচার চাই,বিচার দেব,নৈষ্ঠিক পু‌লিশ

আবারও অপরাধী‌দের কাঠগড়ায় তুল‌বে।

প্রিয় অভয়া,আর এ‌সোনা এই অসভ্যতায়।

সোমবার, ১২ আগস্ট, ২০২৪

জান্নাত তোমার নয়

 ‌জান্নাত তোমার নয়

নিধুভূষণ দাস


কো‌নে‌ভো‌বেই তু‌মি আমার মাতৃভূ‌মি,

আমার প্রিয় স্ব‌দেশ

আমার কাছ থে‌কে কে‌ড়ে নি‌তে পার‌বেনা।

না‌ড়ির সম্পর্ক কাট‌তে পা‌রে কোন জল্হাদ!


লো‌ভে,বি‌দ্বে‌ষে,ধর্মান্ধতায় তু‌মি আমা‌কে

বাস্তুচ্যুত কর‌তে পার,তস‌লিমার মত দেশান্তরী

হ‌তে পা‌রি আ‌মিও,

য‌দি তু‌মি রাষ্ট্রশ‌ক্তির মদত পাও।


রাহুল আন‌ন্দের বা‌ড়িঘর পু‌ড়ি‌য়ে,হে মূঢ়

পার‌বে কি এই জ‌লের গান ভু‌লি‌য়ে দি‌তে?

তস‌লিমা কি বড় আ‌রো বড় হ‌চ্ছেন না দি‌নদিন?

নালন্দা বিশ্ব‌বিদ্যালয় হয়‌নি অমর অক্ষয়?


তু‌মি দে‌শহি‌তৈষী নও দ্বেষী,তু‌মি দেশ‌প্রেমী‌কে

নির্বা‌সিত কর,খুন,ধর্ষণ কর

অমানুষ কো‌নো‌দিন কল্যান কর‌তে জা‌নেনা।

অধর্ম‌কে ধর্ম মা‌নে যারা

তা‌দের কা‌ছে মূল্য‌বোধ আশা করা বৃথা।


সু‌ফি সন্ত‌দের কা‌ছে শেখ ইসলা‌মের সার কথা

যে রবীন্দ্রনা‌থ লাল‌নের আখড়ায়‌ যে‌তেন 

উচ্চা‌ঙ্গে‌র দর্শন বুঝ‌তে,অর্বাচীন তু‌মি তাঁর 

মূর্তি ভে‌ঙ্গে‌ পৈশাচিক উল্লাস কর।


তু‌মি আ‌লো-ব‌ঞ্চি‌ত অধম,জান্নাত তোমার নয়।



রবিবার, ৩০ জুন, ২০২৪

আ‌মি তাহা‌কেই চাই

 আ‌মি তাহা‌কেই চাই

নিধুভূষণ দাস



আ‌মি তাহা‌কেই চাই

নীল আকা‌শের আ‌ঙ্গি‌নায়

শারদ সকা‌লে যে দি‌য়ে‌ছিল চুম্ব‌নের উষ্ণতা।


আ‌মি তাহ‌াকেই চাই

শারদ ঊষায় তু‌লোর মত 

ভে‌সে‌ছিল যে অনাবিল নীল ঠিকানায়।


আ‌মি তাহা‌কেই চাই 

যে আমা‌কে ব‌লে‌ছিল এক‌দিন 

বন্ধন ছিঁ‌ড়ে চ‌লে আয় পা‌রিস য‌দি।


আ‌মি তাহা‌কেই চাই

যে আমা‌কে‌ স‌স্নে‌হে ব‌লে 

জীবন অনন্ত,অসীম,অ‌বিরাম।


আ‌মি তাহা‌কেই চাই

যা‌রে আ‌মি আমার মা‌ঝে পাই।


শুক্রবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৩

জ‍্যোৎস্নায়ও দেখি ঘোর অন্ধকার

 জ‍্যোৎস্নায়ও দেখি ঘোর অন্ধকার

নিধুভূষণ দাস



ভাল আছ তোমরা পূর্বগামী পূর্বজ

উপণিষদ যুগের নিসর্গ নিয়মে

অন্তহীন আকাশের অসীমে লীন হয়ে।


বিবর্ণ নিখিলে ধর্মনাশী সময়ে

জল-বায়ুর ধর্ম গেছে 

আমাদের ছড়ানো দূষণে।

সমাজও হয়েছে হিংসাধ্বস্ত

ক্ষমতার অশ্লীল আস্ফালনে।


আমি কি পারিনা ছড়াতে

একমুঠো শুভাশিস এই প্রাতে!


পারছি কই এই ধর্ম-বিভ্রান্তির

অন্ধকার সকালে?


ফুল বাগানের ওপারে

তোমাদের উঠোনে

কার্তিকের জ‍্যোৎস্নায়

বসতে পারে না কি

রূপসী বাংলার কবিতা

পাঠের আসর?


কই দেখিনা তো!


আমি যে আমার মতো

পারিনা ভাবিতে,চলিতে,বলিতে

জীবিত মা-বাবার স্মৃতি তর্পনে

 প্রজ্ঞার আতিশয‍্যে মস্তক মুণ্ডন

স্বেচ্ছায় করি আরোপিত ভাবনায়।


আমি জ‍্যোৎস্নায়ও দেখি ঘোর অন্ধকার।


শনিবার, ৮ জুলাই, ২০২৩

আ‌লোয় ভরা আগামী দিন

 ‌আ‌লোয় ভরা আগামী দিন

নিধুভূষণ দাস


বি‌কেল এ‌লো মুচ‌কি হে‌সে

শীতলক্ষায় সূর্য ডুব‌তে

গাঁ‌য়ের বধূ নদীর প‌থে জল‌কে চ‌লে

একটু প‌রে চণ্ডীতলায় কীর্তন হ‌বে

ঝিঁ‌ঝিরা সব সঙ্গত কর‌বে

বি‌কেল মা‌নেই হাল্কা জীবন।


ষাট ছুঁইছুঁই ম‌নির এখন মজার সময়

না‌তিনাতনীর কোলাহ‌লে মালা জপ‌ছে

আপন ম‌নে,কৈ‌শো‌রের সখার স‌ঙ্গে‌

ভাব জ‌মে‌ছে নতুন ক‌রে,ফি‌রে গে‌ছে

চালতাতলার ভালবাসার দিনগু‌লি‌তে।


বি‌কেল মা‌নেই সু‌খের সময়

ইচ্ছা পূর‌নের সেরা সু‌যোগ

নতুন দি‌নের অ‌পেক্ষা

আ‌লোয় ভরা আগামী দিন।







শুক্রবার, ৩০ জুন, ২০২৩

নারায়ণী নমোহস্তুতে

 নারায়ণী নমোহস্তুতে

নিধুভূষণ দাস


চলে যাবো আশ্বিনেই, কোনো এক

বৃহস্পতিবারের উদীচী কালে

মহাকাল তোমাকে দিয়ে যাবো অর্ঘ।


 বাগানে ফোটে অপরাজিতা,জবা ও মল্লিকা

পূজা সেরে চলে যাবো 

বলে যাবো নারায়ণী নমোহস্তুতে।


 বসুধা তোমার উষ্ঞতা বাড়ছে ক্রমে

দাবদাহে অস্থির জীবন

যন্ত্রে মিলছে সাময়িক উপশম।


দিকে দিকে দাবানল,ঘন ঘন 

সাগরজ ঘূর্ণীঝড়

 প্রযুক্তি পরাজিত প্রলয়ের কাছে।


কোভিডেরা ছেড়েছে তুষারশয‍্যা

ভয়ঙ্কর দৈত‍্যদের শীতঘুম ভেঙ্গেছে

মেরুদেশে গলছে বরফ।


থাকবে মানবাসুর,চলে যাবো আমি

বলে যাবো: নমস্তস্যৈ নমো নমঃ

আত্মলীনা প্রকৃতিস্বরূপা দেবী।

রবিবার, ৪ জুন, ২০২৩

সভ্যতার যাতনা

 ‌সভ্যতার যাতনায়

নিধুভূষণ দাস



ফি‌কে নীল চা‌ঁদোয়ায় সাদা ছোপ

এখা‌নে ওখা‌নে,জ্যৈ‌ষ্ঠের দুপু‌রে

তাপ‌বিদ্ধ  মা‌টি  ও বাতাস

দহ‌নে কাবু ঘাস ফুল পাতা।


অ‌স্থির পা‌খিসব ঠোঁট খু‌লে হাঁফায়

এক ফোঁটা জল নেই‌ তেষ্টায় 

সকাল বিকাল নলবাহী জ‌লের

অপচয় নির্বোধ মানু‌ষের চোখ এড়ায়।


শি‌লিগু‌ড়ি শহ‌রের নদীগু‌লি নর্দমা

সভ্যতার যাতনায়, বি‌বেক ঘু‌মি‌য়ে 

আ‌ছে স্বার্থের কো‌লে,লে‌লিহান উত্তাপ

দার্জি‌লি‌ঙের পাহাড় চূড়া ছুঁ‌য়ে‌ছে।


কর্তারা চুপচাপ,ভোট বড়ই বালাই

প্লাস্টিক চার‌দি‌কে,হা‌টে-বাজা‌রে

নর্দমায় নদী‌তে,শি‌ল্পের স্বার্থ দেখা

সভ্যতার দায়, তাই।


অ‌বুঝ কর্তারা,অশুদ্ধ উচ্চার‌ণে

 মন্ত্র পাঠ করা পুরু‌হি‌তের ম‌তো,

শুধু শিল্পায়‌নের বাণী আওড়ায়,

দূষ‌ণে চুপচাপ,ভোট বড়ই বালাই।


ও‌দের টাকার গর‌মে উষ্ণায়ণ বা‌ড়ে

এ‌সি,গা‌ড়ি,ফ্রিজ দূষণ ছড়ায়

নৈশ সংস্কৃ‌তির বিস্তার আ‌মোদ ও 

আ‌য়ের নতুন পথ বাৎলায়।


সভ্যতা জীবনযন্ত্রনা বাড়ায়।





বৃহস্পতিবার, ১ জুন, ২০২৩

দূ‌রে থে‌কেও কা‌ছে

 দূ‌রে থে‌কেও কা‌ছে

নিধুভূষণ দাস


ভাল থে‌কো,কথা হ‌বে,সুপ্রভাত!

দেখা নেই,চার দশক,তাও

রে‌খে‌ছো ম‌নে,বল‌তে পা‌রো

অকপ‌টে,"দুূরে আছি তবু 

মনে হয় কতো কাছে।"


ভা‌বি‌নি প্রথম দি‌নের উষ্ণতা

হৃদয়ে লা‌লন ক‌রে চ‌লেছো,

 পা‌রি‌নি আ‌মিও ভু‌লি‌তে।


কেউ কাউ‌কে কথা দিইনি 

 তোমা‌কে পাই আ‌লিঙ্গ‌নে

যখন তখন,যেমন পেতাম

কৈ‌শো‌রে অনা‌বিল আন‌ন্দে।


ভাল আ‌ছি,ভাল আছ ম‌নে রে‌খে।




শুক্রবার, ১২ মে, ২০২৩

তোমার গহ‌নে

 তোমার গহ‌নে

নিধুভূষণ দাস 


তোমার গহ‌নে আমার আশ্রয়

দেখেছি অ‌নেকটা,বা‌কি তবু

র‌য়ে গে‌ছে কতটা, জা‌নিনা।


তোমার গ্রীবা কি‌সের ম‌তো

বল‌তে পা‌রি, জিহ্বা কতটা

খসখ‌সে জা‌নি,মু‌খের সুবা‌সে

মাতাল হই, কা‌মি‌নীর গন্ধে 

সা‌পের ম‌তো,তবু কত অজানা!


শরী‌রের প্র‌তি‌টি খাঁজ অনায়া‌সে

আবৃ‌তি কর‌তে পা‌রি,চু‌লের ডগার

ছোঁয়ায় অ‌লেী‌কিক শিহরণ জা‌গে।


ম‌নের প্র‌তি‌টি ভাঁ‌জে কী খেলা ক‌রে

দে‌খি আ‌মি অবলীলায়।তাও যখন

মুচ‌কি হেসে ব‌লো, "আ‌মি অথই"

ভা‌বি, সৃষ্টি‌কে কতটাই বা চি‌নি?


তবু বল‌তে পা‌রি,ই‌চ্ছে কর‌লে

পাথরে তোমা‌র সৃষ্টি কর‌তে পা‌রি

নি‌টোল নির্মল রূপ,তারপর হয়‌তো

ব‌লে উঠ‌বো, "মাতৃরূ‌পেণ সং‌স্থিতা!"

 







মঙ্গলবার, ২৮ মার্চ, ২০২৩

রক্তপাতে দোষ নেই

 রক্তপাতে দোষ নেই

নিধুভূষণ দাস


"Out damned spot!Out,I say!"


এক রাতে রাজরক্তে রঞ্জিত করেছিলে

নিজের হাত,খুন করেছিলে আঁধারের
পবিত্রতা,নিদ্রার প্রশান্তি।

আজ রাতে ঘুমাও যখন,এক হয়না‌ 

চোখের পাতা,ছোট্ট প্রদীপের

 আলোয় হাত ধোয় অবিরাম, রক্তের

দাগ আর ঘ্রাণ মুছে দিতে,বলে যাও,

"ওহ্ আরবের সব সুগন্ধি পারবেনা

 এই রক্তের গন্ধ‌ দূর করতে!"


আজও তুমি সক্রিয়, ক্ষমতার টান আর

 রক্তের ঘ্রাণ একাকার হয়ে তোমাকে

বলে, "রক্তপাতে দোষ নেই,

জীবনের চেয়ে পবিত্র সিংহাসন।"


শনিবার, ২৫ মার্চ, ২০২৩

দ্রেীপদীর প্রশ্ন

 দ্রেীপদীর প্রশ্ন

নিধুভূষণ দাস 


লাাঞ্ছি‌তা দ্রেীপদী কুরুসভায় দৃঢ়তায়

প্রশ্ন কর‌লেন,"পাশায় হে‌রে ক্রীতদাস

যুধি‌ষ্ঠির তাকে বাজি রাখেন কীভা‌বে?"

রা কা‌ড়েন‌নি উপ‌স্থিত ভীষ্ম পিতামহও

আমরাও বি‌বেক বন্ধক রাখি স্বা‌র্থের কা‌ছে।


বিদুর আর বিকর্ণ ব‌লেন,এই বা‌জি অ‌বৈধ,

দ্রেীপদী স্বাধীন,এই সহজ কথা‌টি অকপ‌টে

বল‌তে পা‌রেন‌নি জ্যেষ্ঠ জ‌নেরা। আজও

অনাচার দি‌কে‌ দি‌কে, আছেন পিতামহগণও

নেই শুধু প্র‌তিবাদে সোচ্চার বিদুর,বিকর্ণরা।


সেদিন জিতে‌ছিলেন  দ্রেীপদী,জয় পায়

বি‌বেক নিসৃত যথার্থ প্র‌তিবাদ।আজ ?

থাক সেকথা,প্র‌তিবাদে ভরপুর দেখি

সংবাদপত্র,টি‌ভি প্র‌তি‌দিন।


বৃহস্পতিবার, ২৩ মার্চ, ২০২৩

প‌বিত্র নির্জ‌নে

 প‌বিত্র নির্জ‌নে

নিধুভূষণ দাস 


ব‌লি, যা‌বে ওইখা‌নে যেখানে 

সবুজ হা‌সে,ঝর্ণার গান চ‌লে

অ‌বিরাম,মা‌ছেরা‌ খে‌লা ক‌রে

নির্দ্বিধায় বিশুদ্ধ জ‌লে?


চ‌লো যাই,বা‌কি দিন থা‌কি গি‌য়ে 

প‌বিত্র নির্জ‌নে, জীব‌নের আশ্র‌য়ে

ওখা‌নে বিলা‌সিতা নেই,লো‌ভে

কেউ ঠকায়নি কাউ‌কে,আসলে

আজও তু‌মি আ‌মি নেই ওখা‌নে।


চ‌লো যাই,কো‌নো প্রসন্ন বি‌কেলে

দুষ্মন্তের রাজ্য থে‌কে অ‌নেক দূ‌রে

আশ্রয় নিই মহ‌র্ষি কন্বর ত‌পোব‌নে

অনসূয়া প্রিয়ংবদা আছে ওইখানে।



শুক্রবার, ২ ডিসেম্বর, ২০২২

প্রতিপক্ষ বটে

 প্রতিপক্ষ বটে

 নিধুভূষণ দাস


ঘরের ভেতরে একান্তে

 একাত্ম তুমি আর আমি,অভিন্ন

বাইরে যদিও প্রবল প্রতিপক্ষ।


না,আমরা এক পরিবার নই

সংকটে পড়লে তোমার শরন লই

বাইরে বীরাগ দেখাই,ঘরে অনুরাগে

চোখ তুলে শুধোই,"ভালতো!

এসেছি আর্জি নিয়ে,রাখতে হবে

এবারও বরাবরের মতোই।"


"ভাল আছো, মণীষা?অনেকদিন পর

এলে এবার,প্রয়োজন বড় বালাই

আবার এস প্রয়োজন ছাড়া।"

শনিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২২

নাচছে মৃত‍্যু,নাচছে ধ্বংস

 নাচছে মৃত‍্যু,নাচছে ধ্বংস

নিধুভূষণ দাস



উড়ছে হাউই মুহুর্মুহু

আকাশ রাঙা,ঝরছে তারা

দালানকোঠায়,হাটেবাটে

উঠছে ধোঁয়া,জ্বলছে বাড়ি

নাচছে মৃত‍্যু,নাচছে ধ্বংস।


উড়ছে হাউই মুহুর্মুহু

আলোর খেলা আকাশে

তাপ বেড়েছে গ্রাম শহরে

ছুটোছুটি চেঁচামেচি

বাতাস ভারি ক্রন্দনে।


নাচছে মৃত‍্যু,নাচছে ধ্বংস।

লাশের পাহাড় রাস্তাঘাটে

স্কুলবাড়ি হাসপাতাল

মৃত‍্যুপুরি ফ্ল‍্যাটবাড়িও

এই উৎসব দেখতে দারুন।

  

                (২)


পুটিমারীর জঙ্গলে

শিয়াল রাজা শাসন করে

স্বরাষ্ট্রে বাঘ,প্রতিরক্ষায় পশুরাজ

 তর্জনে আর গর্জনে

কম্পমান আর সবাই।


               (৩)


নাচছে মৃত‍্যু,নাচছে ধ্বংস

দেখছে  রাজা দেখছে মন্ত্রী

হেসে তারা কুটিকুটি।

উড়ছে হাউই মুহুর্মুহু

আকাশ রাঙা,ঝরছে তারা।



রবিবার, ২ জানুয়ারি, ২০২২

সেই পলাশ-রাঙা রাজপথ

 সেই পলাশ-রাঙা রাজপথ

নিধুভূষণ দাস


সেদিনও রাজপথ পলাশ-রাঙা ছিল

আকাশ ছিল আলোয় উজ্জ্বল

সেইদিনই সবুজ বাংলায় রক্তলাল 

সূর্য উঠেছিল,মনে পড়ে?


ইডেনের সামনে তুমি আর আমি

চোখে শঙ্কা, ঠোঁট কাঁপছিল,

বলেছিলে, কী জানি কী হয়!

ভাবলাম শুধোই,সূর্যোদয়ে কেন ভয়?


এইমাত্র আজিমপুরের এই পথে

নতুন পতাকা হাতে অজস্র মানুষের

মিছিল গেল স্লোগান মুখর:

"তোমার  আমার ঠিকানা

 পদ্মা-মেঘনা-যমুনা"।


সেদিন টিএসসি-তে তুমি গেয়েছিলে

"আমার সোনার বাংলা", আজ এই

সোনার পতাকায় ভয় পেলে চলে?

চলো যাই,রমনার রেস্তোরাঁয়।


কফি কাপে চুমুক দিয়ে বললে,

ঝালকাঠি  ফিরে যাবো কাল

দেখা হবে হয় যদি নতুন সূর্যোদয়।


দেখা হয়েছিল লবন হ্রদে, উদ্বাস্তু শিবিরে

বিজয় এলো মুক্তিযুদ্ধে,আবার গাইলাম

আমরা "আমি কি ভুলিতে পারি আমার 

ভায়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি"?


বিজয়ের পঞ্চাশ বছর পূর্তিতে

ব্ল‍্যাক কফি হাতে দুই প্রৌঢ় বসে 

আছি মুখোমুখি,অবসরে।

মনে পরে সেদিনের রমনার কফি?





রবিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২১

মল্লিকা, শোন

 মল্লিকা, শোন

নিধুভূষণ দাস


মল্লিকা,শোন,কাঠমল্লিকা আমার কম

প্রিয় নয়।তোমরা গোলাপকে ফুলের 

রানী বল।ধানের আলে,পথের ধারে

অযত্ন লালিত লজ্জাবতী কম কিসে?


কেয়ার রূপ-গন্ধ রানীকে হার মানায়

বাঁশ ঝাড়ে আপন মনে ফুটে ওঠা 

খারকোন ফুল রানীর চেয়ে

অধিক লাল। তোমায় বলি,আমার

প্রিয় জলে-ভাসা শাপলা আর

কচুরিপানার ফুল। আহ্ ,কী অপরূপ!


তোমরা মজে আছো তাজমহলের রূপে

আমার প্রিয় জব্বলপুরের ভারসাম্য শিলা।

ভেদাঘাটে নর্মদা তীরের মার্বেল পাহাড়

দেখে এসো। আহ্,জোছনা রাতে স্নিগ্ধ

আলোয় কী অপরূপ জগন্ময়ের ভাস্কর্য!



মঙ্গলবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২১

যখন বয়স আটষট্টি

যখন বয়স আটষট্টি

নিধুভূষণ দাস

 

যখন বয়স আটষট্টি, ভাটিতে সাঁতার কাটি

শুরুতেই শেষ জানি, উজানে অনাগ্রহী

পুরুষের প্রেরণায় প্রকৃতির অন্বেষায় চলি

 

শৈশবে সামুদা বর্ষায় ডিঙ্গি ভাসাতো

 খালের ভাটিতে,চলে যেতাম আদিগন্ত

মাঠে,যেখানে হাসতো সাপলা,দুলতো 

আমনের গাঢ় সবুজ মাথা 

দেখতাম মাছেদের আনন্দ উচ্ছ্বাস

এই বুঝি অসীমে আনন্দমেলা!

 

হিমালয় থেকে নেমেছি দুর্জয় বেগে

ভেঙ্গেছি পাথরের বাধা

আমি তোমাদের কেউ নই

আমি পুরুষের ইচ্ছায় চলি

যদিও তোমরা বল আমি নদী

 

্আমি সাগরমুখি যাত্রী

তোমরা আমার গলা টিপে ধরো

আমি মানি না কোনো মানা

আমার চরে বসাও বসত

আমার পথে তৈরি কর বাঁধ

আমি চলি আপন মনে অন্য পথ বেঁধে

 

আমি ভাটিতে চলি,উজানে অনাগ্রহী

প্রকৃতির বিশালতায় লীন হবো বলে ছুটি

যখন আমি আটষট্টি, পুরুষ আমাকে

 নিয়ে যাচ্ছে সমাপ্তির আশ্রয়ে

যেখানে শুরু সেখানেই হারিয়ে যেতে